রঙ পেন্সিল একাডেমি হচ্ছে এমন একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যেখানে ছোট্টমণিরা সুন্দর পরিবেশে চিত্রাংকন, নাচ, গান, তবলা, গিটার, নাট্যকলা, হাতের লেখা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
রঙ পেন্সিল একাডেমি চালু হয়েছে বেশিদিন হয় নি। কিন্তু এত কম সময়েই এটি এলাকায় সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। রঙ পেন্সিলের পোস্টার, লিফলেট ইত্যাদি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে একাডেমির বিভিন্ন আয়োজন মানুষকে মুগ্ধ করেছে।
আয়োজনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল “বর্ষবরণ-১৪১৮” অনুষ্ঠানটি। এতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি র্যালীর আয়োজন করা হয়েছিল। র্যালীর জন্য আমরা কাগজ ও বাঁশের তৈরি ছয় ফুট উচ্চতার একটি মোরগ তৈরি করেছিলাম। আমাদের আয়োজনে আমাদের সাথে ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা। বৈশাখকে নিয়ে এরকম আয়োজন এলাকায় আমরাই প্রথম করেছি।
এছাড়াও বিজয় দিবস ২০১০ উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও ভোজনের ব্যবস্থা, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০১১তে শহীদ মিনার গমন এবং ক্যানভাস প্রদান, ২৬শে মার্চ ২০১১তে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য।
আমাদের ফেসবুক পেজে আয়োজনগুলোর অসংখ্য ছবি পাবেন। এজন্য এখানে ক্লিক করুন।
রঙ পেন্সিল একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের জুলাই মাসে। রঙ পেন্সিল তখন খুব ভাল অবস্থায় ছিল না। তবুও একাডেমির সম্মানিত পরিচালক জনাব জীবন অভিভাবক-অভিভাবিকার অনুরোধে চেষ্টা চালিয়ে। সেই অবস্থা থেকে রঙ পেন্সিল একাডেমি আজ এ পর্যন্ত এসেছে। এখন রঙ পেন্সিলে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী আছে। ভচরে এটিতে তিনটি সেশনে ছাত্র ভর্তি করা হচ্ছে। সময়মত ক্লাস দেয়া হচ্ছে, পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। বাচ্চাদেরকে আইডি কার্ড এবং কোর্সের সরঞ্জামাদি নিয়মিত সুলভমূল্যে দেয়া হচ্ছে।
রঙ পেন্সিল একাডেমি ডিপ্লোমা কোর্সের আঙ্গিকে পরিচালিত হয়। এজন্য এতে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ক্লাস চলে এবং পরীক্ষা হয়। কোর্স শেষে বাচ্চারা একটি ঝকঝকে সার্টিফিকেট হাতে পায়, যা তারা বাবা-মাকে দেখাতে পারে। এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা!
রঙ পেন্সিল একাডেমি থেমে নেই। বাচ্চাদেরকে সঠিকভাবে ও সহজে বিভিন্ন বিষয় কিভাবে বোঝানো যায় তা নিয়ে শিক্ষকমন্ডলী গবেষণা করছেন। ভবিষ্যতে এসব গবেষণা নিয়ে বই বেরুবে, যা বাচ্চাদের কোর্সের পুরোটাই পূরণ করবে।
এতকিছু পড়ে যতটা না আপনার ভাল লাগবে, তারচেয়ে অনেক ভাল লাগবে আমাদের একাডেমিতে সশরীরে এলে। একাডেমিতে এলে যে কারোরই মন ভাল হয়ে যায়। একাডেমির ফুটফুটে এসব শিশুর মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্যই এর ১২ জন শিক্ষক এবং পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য এবং ৩ জন স্টাফ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
